সাকিব আল রোমান : বাবা-মায়ের সুখের সংসারে বিধাতার দ্বিতীয় উপহার মিমোষা লিমু হাওলাদার। দেখতে খুবই মিষ্টি ছিল বলে হাসপাতালেই তার নাম রাখা হয় মিষ্টি। আর সেদিনের মিষ্টিই আজকের মিমোষা লিমু হাওলাদার। তার জন্মটা হয় এক খ্রীস্টান পরিবারে।
মিষ্টি থেকে মিমোষা লিমু হাওলাদার হয়ে ওঠার গল্প পাঠকদের সামনে তুলে ধরেছি আজ।
মিমোষা লিমু এই প্রতিবেদককে বলেন, আমার বড় ভাইয়ের জন্মটা ছিল মুখ ও বধির প্রতিবন্ধী হয়ে। তার প্রায় পৌঁনে তিন বছর পরে আমার জন্ম নেয় লিমু। জন্মটা জামালপুরে হলেও খুব বেশীদিন সেই অঞ্চলের আলো-বাতাসে থাকা হয়নি এই রমণীর। লিমুর বেড়ে ওঠা মামা বাড়িতে টাঙ্গাইলের মধুপুরে।
লিমু জানান, আমার বয়স তখন মাত্র পাঁচ বছর। তখন আমাদের পরিবারে আসে আমার ছোট বোন। মায়ের সুস্থতার কথা ভেবেই সেসময় আমাকে নানী নিয়ে যায় মামা বাড়িতে। এতোটুকু বয়সে সবাই যতই আদর করুক বাবা মায়ের অভাব কেউ পূরণ করতে পারে না এবং মায়ের বুকও খাঁ-খাঁ করে উঠে।
তিনি আরো বলেন, যখন প্রাথমিক বিদ্যাপাঠ শেষ করে উচ্চ মাধ্যমিকে পা বাড়াবো তখন আমাকে নানা বাড়ি থেকে ফের বাবা-মায়ের কাছে ফিরিয়ে আনা হয়। আমি তখন 'ওস্তাদ ফজলুল হক প্রি ক্যাডেট এন্ড হাইস্কুল' থেকে প্রাথমিক বিদ্যাপাঠ শেষ করে 'কর্পোস খ্রীষ্টি প্রাথমিক বিদ্যালয়' স্থানান্তর হই। উচ্চ বিদ্যালয় ছিল বারহাট্টা সি.কে.পি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় এবং কর্পোস খ্রীষ্টি উচ্চ বিদ্যালয়।
স্কুল জীবনে লিমু ছিল অনেক বেশি দূরন্ত এবং দায়িত্ব পরায়ণ। স্কুলের সব শিক্ষক শিক্ষিকা, জুনিয়র এবং সিনিয়ররা তাকে খুব ভালোবাসতো এবয় এখনও ভালোবাসে। স্কুলের বিভিন্ন কাজে এবং অনুষ্ঠানে তার উপস্থিতি টের পাওয়া যেত। হয় অংশগ্রহকারী নয়তো সেচ্ছাসেবী হিসেবে। বাবার আদর্শে বড় হওয়া লিমু সবসময়ই মাথায় রাখতো যে কোন ভালো কাজে শুধু মাত্র জয়ী হওয়া নয়, অংশগ্রহণটাও বড়।
স্কুলের গন্ডী শেষ করে লিমু ভর্তি হলো মধুপুর থানাধীন মধুপুর 'শহীদ স্মৃতি উচ্চ মাধ্যমিক' বিদ্যালয়ে। কলেজে উঠে পড়াশোনায় অনেক বেশি অমনোযোগী হয়ে যায় লিমু। সবাই ভাবে এইচএসসি টা বোধহয় পাশ করা হবে না, লিমু নিজেও ভেঙ্গে পরে ফাইনাল পরীক্ষার কাছাকাছি এসে। সে ভাবতে থাকে এতোদিন কি করলাম!
মিমোষা বলেন, তখন হাতে মাত্র ১৫ দিন বাকি ছিল। মন প্রাণ দিয়ে পড়াশোনা করতে থাকলাম। অন্তত কোনমতে পাশ করতে পারলে তো মানটা বাঁচানো যাবে। যেহেতু ঘটনাটি ২০১১ সালের তাই প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়ার কোন চান্স ছিল না। হলেও তা গ্রহণ করার মতো ইচ্ছে হয়তো কখনোই টানবে না আমাকে। যাই হোক, অবশেষে পরীক্ষা দিয়ে রেজাল্টের অপেক্ষায় অধীর আগ্রহ নিয়ে বসে রইলাম।
তিনি আরো বলেন, রেজাল্টের দিন ভয়ে আমার প্রাণ যায় অবস্থা। কারণ পরীক্ষা মোটামুটি ভালো দিলেও মাত্র ১৫ দিনের প্রিপারেশন আবার একই সাথে মামাতো বোনও পরীক্ষা দিয়েছে তাই একজন পাশ একজন ফেইল করলে পরিস্থিতি অস্বাভাবিক হবে। তাই চিন্তার ভাঁজটা কপালের উপর দৃশ্যমান ছিল। কলেজের সব টিচাররা পর্যন্ত হাল ছেড়ে দিয়েছিল লিমু পাশ করবে কিনা! তবে, আমার রেজাল্ট আসে জিপিএ ৪.১০।
লিমুর জীবনের অন্যতম চ্যালেঞ্জ গ্রহণ এবং সফলতা বলা চলে। অনেক ভালো ছাত্র-ছাত্রীদের চেয়েও লিমু ভালো করায় শিক্ষকরা সেসময় খুশি হয়ে লিমুকে উল্টো মিষ্টি খাওয়ায়। তবে লিমুকে পেয়ে বসে অসুস্থতা। সেই নিদ্রাহীন ১৫দিন লিমুকে তাড়া করে। ভার্সিটি ভর্তি পরীক্ষায় পিছিয়ে যায় তিনি। অতপর সুস্থ হয়ে ময়মনসিংহের আলমগীর মনসুর মিন্টু মেমোরিয়াল কলেজে 'ব্যাচেলর অব বিজনেস স্টাডিজ' শুরু করে এবং শেষ করে। বর্তমানে ইডেন মহিলা কলেজে ম্যানেজমেন্ট বিভাগে মাস্টার্স শেষ বর্ষে অধ্যয়নরত।
লিমু জানান, আমি বরাবরই আত্নকর্মসংস্থানের উপর আত্মনির্ভরশীল হতে চাইতাম। যার অন্যতম জনপ্রিয় উপায় ব্যবসা। ব্যবসায় শিক্ষা নিয়ে পড়াশোনা করার একটা বড় কারণ ছিল আমার। নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের মেয়ে আমি। অনেক সময় অনেক স্বপ্ন পূরণ হতো না। বাবার সাধ্যমতো দেয়ার চেষ্টা করতো কিন্তু সাধ্যের বাইরে হলে পছন্দের কিছু হলেও অনেক সময় পাওয়া হতো না। একসময় একজন বলেছিল দুই টাকার জামা পরেছো, দেখতে ক্ষ্যাত লাগে। আসলে তখনই প্রতিজ্ঞা করি, দুই টাকার জামা পড়া এই আমি একদিন হাজার টাকার জামা বিক্রি করবো নিজের দোকানে। আমিও হবো একজন নারী উদ্যোক্তা।
তখন থেকেই মনের ভিতর নিজের স্বপ্নকে পুষতে থাকে লিমু। এই স্বপ্নের মাঝেই বিয়ের পিঁড়িতে বসতে হয় তাকে। একদা স্বামীকে তার স্বপ্নের কথা জানায় এবং স্বামীর সমর্থন পেয়ে গড়ে তুলেন 'মিমোষা'স ইউটোপিয়া' নামক একটি অনলাইন বুটিক শপ। 'মিমোষা'স ইউটোপিয়া' এর অর্থ হচ্ছে মিমোষার স্বপ্নরাজ্য। স্বামীর পছন্দেই নামকরণ করেন এই রমণী।
মিমোষা'স ইউটোপিয়ার বয়স প্রায় দেড় বছর। এরই মধ্যে সফলতার মুখ দেখতে শুরু করছে। সমর্থন রয়েছে বাবা মায়েরও। লিমুর ঘর আলোকিত করতে বিধাতা তাকে একটি ছেলে সন্তান উপহার দিয়েছেন। তবে, ব্যবসায় মনোনিবেশ করা লিমু থেমে থাকেনি, বরং প্রসারিত হয়েছে। ছেলেকে নিয়েই পাড়ি দিচ্ছে দূর্গম পথ।
এই নারী উদ্যোক্তা জানান, প্রতি সপ্তাহে মা ছুটে আসে এবং ব্যবসায়ের পণ্য আনতে আমার সাথে মার্কেটে যায়। বাবা এবং স্বামী ডেলিভারি সাপোর্ট দেয়। ছোটবোনটাও পণ্য আনার কাজে সাহায্য করে। শাশুড়ি মা সাহায্য করেন ঘরের কাজে। মোটামুটি ঘরে এবং বাইরে পুরোটাই জয় করে নেয়ায় এখন নিজেকে নিয়ে খুশী এই রমণী। লিমুর ভাবনায় এখন সন্তানের সুন্দর ভবিষ্যত ও ভবিষ্যতে 'মিমোষা'স ইউটোপিয়া'র একটি শোরুম।
মিষ্টি থেকে মিমোষা লিমু হাওলাদার হয়ে ওঠার গল্প পাঠকদের সামনে তুলে ধরেছি আজ।
মিমোষা লিমু এই প্রতিবেদককে বলেন, আমার বড় ভাইয়ের জন্মটা ছিল মুখ ও বধির প্রতিবন্ধী হয়ে। তার প্রায় পৌঁনে তিন বছর পরে আমার জন্ম নেয় লিমু। জন্মটা জামালপুরে হলেও খুব বেশীদিন সেই অঞ্চলের আলো-বাতাসে থাকা হয়নি এই রমণীর। লিমুর বেড়ে ওঠা মামা বাড়িতে টাঙ্গাইলের মধুপুরে।
লিমু জানান, আমার বয়স তখন মাত্র পাঁচ বছর। তখন আমাদের পরিবারে আসে আমার ছোট বোন। মায়ের সুস্থতার কথা ভেবেই সেসময় আমাকে নানী নিয়ে যায় মামা বাড়িতে। এতোটুকু বয়সে সবাই যতই আদর করুক বাবা মায়ের অভাব কেউ পূরণ করতে পারে না এবং মায়ের বুকও খাঁ-খাঁ করে উঠে।
তিনি আরো বলেন, যখন প্রাথমিক বিদ্যাপাঠ শেষ করে উচ্চ মাধ্যমিকে পা বাড়াবো তখন আমাকে নানা বাড়ি থেকে ফের বাবা-মায়ের কাছে ফিরিয়ে আনা হয়। আমি তখন 'ওস্তাদ ফজলুল হক প্রি ক্যাডেট এন্ড হাইস্কুল' থেকে প্রাথমিক বিদ্যাপাঠ শেষ করে 'কর্পোস খ্রীষ্টি প্রাথমিক বিদ্যালয়' স্থানান্তর হই। উচ্চ বিদ্যালয় ছিল বারহাট্টা সি.কে.পি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় এবং কর্পোস খ্রীষ্টি উচ্চ বিদ্যালয়।
স্কুল জীবনে লিমু ছিল অনেক বেশি দূরন্ত এবং দায়িত্ব পরায়ণ। স্কুলের সব শিক্ষক শিক্ষিকা, জুনিয়র এবং সিনিয়ররা তাকে খুব ভালোবাসতো এবয় এখনও ভালোবাসে। স্কুলের বিভিন্ন কাজে এবং অনুষ্ঠানে তার উপস্থিতি টের পাওয়া যেত। হয় অংশগ্রহকারী নয়তো সেচ্ছাসেবী হিসেবে। বাবার আদর্শে বড় হওয়া লিমু সবসময়ই মাথায় রাখতো যে কোন ভালো কাজে শুধু মাত্র জয়ী হওয়া নয়, অংশগ্রহণটাও বড়।
স্কুলের গন্ডী শেষ করে লিমু ভর্তি হলো মধুপুর থানাধীন মধুপুর 'শহীদ স্মৃতি উচ্চ মাধ্যমিক' বিদ্যালয়ে। কলেজে উঠে পড়াশোনায় অনেক বেশি অমনোযোগী হয়ে যায় লিমু। সবাই ভাবে এইচএসসি টা বোধহয় পাশ করা হবে না, লিমু নিজেও ভেঙ্গে পরে ফাইনাল পরীক্ষার কাছাকাছি এসে। সে ভাবতে থাকে এতোদিন কি করলাম!
মিমোষা বলেন, তখন হাতে মাত্র ১৫ দিন বাকি ছিল। মন প্রাণ দিয়ে পড়াশোনা করতে থাকলাম। অন্তত কোনমতে পাশ করতে পারলে তো মানটা বাঁচানো যাবে। যেহেতু ঘটনাটি ২০১১ সালের তাই প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়ার কোন চান্স ছিল না। হলেও তা গ্রহণ করার মতো ইচ্ছে হয়তো কখনোই টানবে না আমাকে। যাই হোক, অবশেষে পরীক্ষা দিয়ে রেজাল্টের অপেক্ষায় অধীর আগ্রহ নিয়ে বসে রইলাম।
তিনি আরো বলেন, রেজাল্টের দিন ভয়ে আমার প্রাণ যায় অবস্থা। কারণ পরীক্ষা মোটামুটি ভালো দিলেও মাত্র ১৫ দিনের প্রিপারেশন আবার একই সাথে মামাতো বোনও পরীক্ষা দিয়েছে তাই একজন পাশ একজন ফেইল করলে পরিস্থিতি অস্বাভাবিক হবে। তাই চিন্তার ভাঁজটা কপালের উপর দৃশ্যমান ছিল। কলেজের সব টিচাররা পর্যন্ত হাল ছেড়ে দিয়েছিল লিমু পাশ করবে কিনা! তবে, আমার রেজাল্ট আসে জিপিএ ৪.১০।
লিমুর জীবনের অন্যতম চ্যালেঞ্জ গ্রহণ এবং সফলতা বলা চলে। অনেক ভালো ছাত্র-ছাত্রীদের চেয়েও লিমু ভালো করায় শিক্ষকরা সেসময় খুশি হয়ে লিমুকে উল্টো মিষ্টি খাওয়ায়। তবে লিমুকে পেয়ে বসে অসুস্থতা। সেই নিদ্রাহীন ১৫দিন লিমুকে তাড়া করে। ভার্সিটি ভর্তি পরীক্ষায় পিছিয়ে যায় তিনি। অতপর সুস্থ হয়ে ময়মনসিংহের আলমগীর মনসুর মিন্টু মেমোরিয়াল কলেজে 'ব্যাচেলর অব বিজনেস স্টাডিজ' শুরু করে এবং শেষ করে। বর্তমানে ইডেন মহিলা কলেজে ম্যানেজমেন্ট বিভাগে মাস্টার্স শেষ বর্ষে অধ্যয়নরত।
লিমু জানান, আমি বরাবরই আত্নকর্মসংস্থানের উপর আত্মনির্ভরশীল হতে চাইতাম। যার অন্যতম জনপ্রিয় উপায় ব্যবসা। ব্যবসায় শিক্ষা নিয়ে পড়াশোনা করার একটা বড় কারণ ছিল আমার। নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের মেয়ে আমি। অনেক সময় অনেক স্বপ্ন পূরণ হতো না। বাবার সাধ্যমতো দেয়ার চেষ্টা করতো কিন্তু সাধ্যের বাইরে হলে পছন্দের কিছু হলেও অনেক সময় পাওয়া হতো না। একসময় একজন বলেছিল দুই টাকার জামা পরেছো, দেখতে ক্ষ্যাত লাগে। আসলে তখনই প্রতিজ্ঞা করি, দুই টাকার জামা পড়া এই আমি একদিন হাজার টাকার জামা বিক্রি করবো নিজের দোকানে। আমিও হবো একজন নারী উদ্যোক্তা।
তখন থেকেই মনের ভিতর নিজের স্বপ্নকে পুষতে থাকে লিমু। এই স্বপ্নের মাঝেই বিয়ের পিঁড়িতে বসতে হয় তাকে। একদা স্বামীকে তার স্বপ্নের কথা জানায় এবং স্বামীর সমর্থন পেয়ে গড়ে তুলেন 'মিমোষা'স ইউটোপিয়া' নামক একটি অনলাইন বুটিক শপ। 'মিমোষা'স ইউটোপিয়া' এর অর্থ হচ্ছে মিমোষার স্বপ্নরাজ্য। স্বামীর পছন্দেই নামকরণ করেন এই রমণী।
মিমোষা'স ইউটোপিয়ার বয়স প্রায় দেড় বছর। এরই মধ্যে সফলতার মুখ দেখতে শুরু করছে। সমর্থন রয়েছে বাবা মায়েরও। লিমুর ঘর আলোকিত করতে বিধাতা তাকে একটি ছেলে সন্তান উপহার দিয়েছেন। তবে, ব্যবসায় মনোনিবেশ করা লিমু থেমে থাকেনি, বরং প্রসারিত হয়েছে। ছেলেকে নিয়েই পাড়ি দিচ্ছে দূর্গম পথ।
এই নারী উদ্যোক্তা জানান, প্রতি সপ্তাহে মা ছুটে আসে এবং ব্যবসায়ের পণ্য আনতে আমার সাথে মার্কেটে যায়। বাবা এবং স্বামী ডেলিভারি সাপোর্ট দেয়। ছোটবোনটাও পণ্য আনার কাজে সাহায্য করে। শাশুড়ি মা সাহায্য করেন ঘরের কাজে। মোটামুটি ঘরে এবং বাইরে পুরোটাই জয় করে নেয়ায় এখন নিজেকে নিয়ে খুশী এই রমণী। লিমুর ভাবনায় এখন সন্তানের সুন্দর ভবিষ্যত ও ভবিষ্যতে 'মিমোষা'স ইউটোপিয়া'র একটি শোরুম।

0 Comments